শেল ব্যাংক (Shell Bank) হলো এমন একটি ব্যাংক যার কোনো বাস্তব অফিস বা শারীরিক উপস্থিতি নেই, এবং এটি কোনো নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় না। এই ধরনের ব্যাংক সাধারণত অবৈধ অর্থ লেনদেন, কর ফাঁকি বা মানি লন্ডারিংয়ের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়।
শেল ব্যাংকের বৈশিষ্ট্য:
বাস্তব অফিস নেই: শুধুমাত্র কাগজে-কলমে বা অনলাইনে অস্তিত্ব থাকে।
কর্মচারী বা কার্যক্রম নেই: কোনো স্থায়ী কর্মচারী বা ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হয় না।
নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধান নেই: কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার অধীনে নয়।
অবৈধ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়: মানি লন্ডারিং, কর ফাঁকি ইত্যাদির জন্য ব্যবহৃত হতে পারে।
উদাহরণ:
১. FBME Bank (Federal Bank of the Middle East)
অবস্থান: Cyprus ও Tanzania
অভিযোগ: মানি লন্ডারিং, সন্ত্রাসে অর্থায়ন
বিশেষত্ব: বাস্তব কার্যক্রম প্রায় না থাকার কারণে এটিকে শেল ব্যাংক বিবেচনা করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের FinCEN একে “Primary Money Laundering Concern” হিসেবে ঘোষণা দেয় (২০১৪)।
২. Stanford International Bank
অবস্থান: Antigua
মালিক: Allen Stanford
অভিযোগ: $৭ বিলিয়ন ডলারের Ponzi Scheme
শেল ব্যাংক বৈশিষ্ট্য: বাস্তব কার্যক্রমের অভাব ও জাল বিনিয়োগ পরিকল্পনা।
৩. Nauru Offshore Banks (Nauru Island)
ছোট্ট দ্বীপ দেশ Nauru একসময় প্রায় ৪০০টি শেল ব্যাংককে লাইসেন্স দেয়।
এসব ব্যাংকের ছিল না কোনো অফিস বা কর্মচারী।
রাশিয়ার অপরাধ সিন্ডিকেটসহ বহু সংস্থা এগুলো ব্যবহার করে টাকা পাচার করে।
৪. Mossack Fonseca ও Panama Papers কেলেঙ্কারি (2016)
Mossack Fonseca নামের ল’ ফার্ম হাজার হাজার শেল ব্যাংক ও শেল কোম্পানি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে।
এতে দেখা যায়, বহু ধনী ব্যক্তি ও রাজনীতিবিদ কর ফাঁকি ও গোপন অর্থ লেনদেনের জন্য এসব শেল ব্যাংক ব্যবহার করেন।
৫. BCCI (Bank of Credit and Commerce International)
অবস্থান: Luxembourg
অভিযোগ: আন্তর্জাতিক মানি লন্ডারিং, অবৈধ অস্ত্র কেনাবেচা
এর কিছু অংশ ছিল কার্যত শেল ব্যাংকের মতো গঠিত।
বাংলাদেশে এমন কোন ব্যাংকের অস্তিত্ব নেই।

0 মন্তব্যসমূহ