এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন আকু (ACU)।

এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন আকু (ACU)।

 


"আকু" (ACU),  হচ্ছে Asian Clearing Union বা আসিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন। এটি একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা যা সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পেমেন্ট লেনদেন সহজ করার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছে।



আসিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন আকু (ACU) কী?যআ

 Clearing Union (ACU) আকু 1974 সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর উদ্যোগে। Asian Clearing Union (ACU) এর সদর দপ্তর ইরানের তেহরান শহরে অবস্থিত।

এটি একটি পেমেন্ট ব্যবস্থা যা সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বহুপাক্ষিক বাণিজ্য এবং পেমেন্ট নিষ্পত্তি সহজ করে তোলে — যাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলার বা ইউরো ব্যবহার না করে পারস্পরিক মুদ্রায় লেনদেন করা যায়।



আকু (ACU) কীভাবে কাজ করে?


1. সদস্য দেশসমূহ:

বর্তমানে ACU-এর সদস্য দেশগুলির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, এবং ভূটান।



2. লেনদেন পদ্ধতি:


সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আমদানি-রপ্তানির টাকা ACU মুদ্রা ইউনিটে (যেমন ACU Dollar, ACU Euro) হিসাব করা হয়।


মাস শেষে নিট ব্যালান্স হিসাব করে সদস্য দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়।


এটি ডলার নির্ভরতা কমায় এবং মুদ্রা সংরক্ষণে সহায়তা করে।


3. ক্লিয়ারিং প্রক্রিয়া:


এক মাসের মধ্যে যতগুলো লেনদেন হয়েছে, তার একটি সারাংশ হিসেব করা হয়।


মাস শেষে একবার নেট সেল্টমেন্ট হয় — অর্থাৎ কে কত টাকা পাবে বা দেবে তা নির্ধারিত হয় এবং সেটি পরিশোধ করা হয়।


উদাহরণ:

ধরা যাক, বাংলাদেশ ভারত থেকে ১০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে এবং একই সময়ে ভারত বাংলাদেশ থেকে ৬ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। তাহলে ACU এর মাধ্যমে শুধু ৪ মিলিয়ন ডলারের নিট পেমেন্ট ভারতের কাছে পাঠাতে হবে।


ACU-এর সুবিধা:


ডলার নির্ভরতা কমে।


মুদ্রা সংরক্ষণে সহায়তা করে।


বহুপাক্ষিক লেনদেনের সহজ নিষ্পত্তি হয়।


ক্লিয়ারিং ব্যবস্থা কেন্দ্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় — স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা বাড়ে।



Asian Clearing Union (ACU) ও বাংলাদেশের ভূমিকা


১. বাংলাদেশের সদস্যপদ:


বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ACU-তে যোগ দেয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আরও কার্যকর ও সাশ্রয়ী একটি পদ্ধতি পেয়েছে।


২. বাংলাদেশের উপকারিতা:


ক. বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয়:


ACU ব্যবস্থায় লেনদেন মাস শেষে নিট আকারে নিষ্পত্তি হয়। ফলে প্রতিটি লেনদেনের জন্য বারবার ডলার বা ইউরো কেনা লাগে না, এতে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কমে।


খ. দ্রুত নিষ্পত্তি ব্যবস্থা:


ACU মাসিক ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে লেনদেন নিষ্পত্তি করে, যার ফলে দ্বিপাক্ষিক দেনা-পাওনার হিসাব সহজ হয়।


গ. ব্যাংকিং খরচ হ্রাস:


প্রতিটি লেনদেনের জন্য সুইফট, ব্যাংক চার্জ, ও অন্যান্য মধ্যস্থ খরচ কমে যায়।


৩. ACU লেনদেনের ধরন:


বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে অন্য সদস্য দেশের ব্যাংকের সাথে আমদানি/রপ্তানির পেমেন্ট ACU ডলার বা ACU ইউরোতে করা হয়। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক সেই লেনদেনগুলো ক্লিয়ার করে।


৪. বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা:


বাংলাদেশ ব্যাংক ACU-এর একজন সক্রিয় সদস্য।


মাস শেষে অন্যান্য সদস্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করে।


ACU-সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে মতামত প্রদান করে।


৫. সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ ও উদ্যোগ:


চ্যালেঞ্জ:


আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে কিছু সদস্য (যেমন ইরান) এর সাথে লেনদেন জটিল হয়েছে।


বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটের সময় ACU পেমেন্টে সাময়িক সমস্যা হয়।



উদ্যোগ:


বাংলাদেশ কখনো কখনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ACU পেমেন্ট স্থগিত রেখেছে বৈদেশিক রিজার্ভ রক্ষার জন্য।


বিকল্প নিষ্পত্তি ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা চলছে (যেমন, চীন বা রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক মুদ্রা বিনিময় চুক্তি)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ