সুদ ও মুনাফার পার্থক্য।

সুদ ও মুনাফার পার্থক্য।


 কেউ কেউ সুদ ও মুনাফাকে একই মনে করে থাকে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সুদ ও মুনাফা এক নয়। এ দু'য়ের মাঝে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক পার্থক্য রয়েছে। 'সুদ' উর্দু শব্দ। পবিত্র কুরআনে যে বিষয়টিকে 'রিবা' শব্দ দিয়ে ব্যক্ত করা হয়েছে, উর্দু ও বাংলা ভাষায় এর উপযুক্ত প্রতিশব্দ না থাকায় এয় অনুবাদ করা হয় 'সুদ' শব্দ দিয়ে। তাই সাধারণত মনে করা হয় যে, রিষা ও সুদ সমার্থবোধক। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে রিবা শব্দটি ব্যাপক অর্থবোধক। আরপ্রচলিত সুদ সেই ব্যাপক অর্থের একটি অংশ মাত্র। সুদকে ইংরেজিতে বলা হয় ইউজারি (usury) বা ইন্টারেস্ট (interest)।


আল কুরআনে ব্যবহৃত 'রিবা' শব্দের বাংলা অর্থ হচ্ছে বেশি হওয়া, বৃদ্ধি পাওয়া, অতিরিক্ত, সম্প্রসারণ, মূল থেকে বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধের শর্তে কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য বা অর্থের বিপরীতে পর্ব নির্ধারিত হারে যে অধিক পরিমাণ পণ্য বা অর্থ আদায় করা হয়, তাকে সুদ বলে। আবার একই শ্রেণিভুক্ত পণ্যের পারস্পরিক লেনদেনের সময় চুক্তি মোতাবেক অতিরিক্ত পণ্য গ্রহণ করা হলে, তাকেও রিবা বা সুদ বলা হয়। 


১. মুনাফা কেনাবেচা বা ব্যবসার স্বাভাবিক ফলস্বরূপ অর্জিত হয়। এ ক্ষেত্রে অর্থকে পণ্যে এবং পণ্যকে অর্থে রূপান্তর করতে হয়। রূপান্তরের ঝুঁকি গ্রহণের স্বাভাবিক ফলস্বরূপ পুঁজির বর্ধিত অংশই মুনাফা। কিন্তু সুদ অর্জিত হয় ঋণের উপর। এখানে কেনাবেচা ও ঝুঁকিগ্রহণ করতে হয় না।


২. মুনাফা হচ্ছে উদ্যোক্তার পুঁজি, শ্রম ও সময় বিনিয়োগ এবং ঝুঁকি গ্রহণের ফল। কিন্তু সুদের ক্ষেত্রে ঋণদাতা পুঁজি, শ্রম ও সময় বিনিয়োগ এবং ঝুঁকি গ্রহণ করে না, অর্থ ধার দেয় মাত্র।


৩. মুনাফা অনির্ধারিত ও অনিশ্চিত। কিন্তু সুদ পূর্ব নির্ধারিত ও নিশ্চিত।


৪. মুনাফায় ঝুঁকি গ্রহণ করতে হয়, আর সুদে ঝুঁকি গ্রহণ করতে হয় না।


৫. ব্যবসায় কোনো পণ্যের উপর লাভ একবারই নির্ধারণ করা যায়, কিন্তু একই মূলধনের উপর সুদ বারবার নির্ধারণ ও আদায় করা যায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ