ব্যাংক থেকে ছেঁড়া ফাঁড়া নোট পরিবর্তন করে নেয়ার নিয়ম।

ব্যাংক থেকে ছেঁড়া ফাঁড়া নোট পরিবর্তন করে নেয়ার নিয়ম।



 বাংলাদেশে ব্যাংক থেকে ছেঁড়া ও ফাটা নোট বদল করার নিয়ম অন্যান্য দেশের মতোই। বাংলাদেশ ব্যাংক এই বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা জারি করেছে। সেই অনুযায়ী, যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় ছেঁড়া ও ফাটা নোট পরিবর্তন করা যায়। নিচে নিয়মগুলো বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো:

সাধারণ নিয়মাবলী:

 * সকল তফসিলি ব্যাংকের শাখা: বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি তফসিলি ব্যাংক তাদের প্রতিটি শাখায় ছেঁড়া ও ফাটা নোট গ্রহণ ও পরিবর্তন করতে বাধ্য। কোনো শাখা এই সেবা দিতে অস্বীকার করতে পারবে না।

 * নোটিশ: প্রতিটি ব্যাংকের শাখায় জনসম্মুখে সহজে দৃশ্যমান স্থানে "ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লা নোট গ্রহণ করা হয়" মর্মে একটি নোটিশ লাগানো বাধ্যতামূলক।

 * বিনিময় মূল্য: ছেঁড়া বা ফাটা নোটের বিনিময়ে গ্রাহককে সমপরিমাণ নতুন নোট প্রদান করা হবে। এর জন্য কোনো প্রকার সার্ভিস চার্জ বা ফি নেওয়া হবে না।

নোটের গ্রহণযোগ্যতার শর্তাবলী:

বাংলাদেশ ব্যাংক (নোট রিফান্ড) রেগুলেশন ২০১২ অনুযায়ী, ছেঁড়া ও ফাটা নোট বদলের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়:

 * ময়লা ও অক্ষত নোট: যদি নোটটি শুধু ময়লা হয়ে থাকে কিন্তু অক্ষত থাকে (কোনো অংশ ছেঁড়া বা অনুপস্থিত না থাকে), তাহলে এর পূর্ণ বিনিময় মূল্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রদান করা হবে।

 * হারানো অংশ: যদি কোনো ছেঁড়া নোটের কিছু অংশ অনুপস্থিত থাকে, তবে বিদ্যমান অংশ যদি ৯০% বা তার বেশি হয়, তাহলে নোটের সম্পূর্ণ বিনিময় মূল্য প্রদান করা হবে।

 * একাধিক খণ্ড: যদি কোনো নোট একাধিক খণ্ডে খণ্ডিত না হয় এবং নোটের সম্পূর্ণ অংশ বিদ্যমান থাকে, তাহলেও এর সম্পূর্ণ বিনিময় মূল্য পাওয়া যাবে।

 * অধিক ছেঁড়াফাটা, পোড়া বা কম অংশ: যদি নোটটি অধিক ছেঁড়াফাটা থাকে, খুব বেশি জীর্ণ হয়, আগুনে পোড়া বা ঝলসানো হয়, ড্যাম্প বা মরিচাযুক্ত হয় এবং বিদ্যমান অংশ ৯০% এর কম হয়, তাহলে এর বিনিময় মূল্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রদান করা হবে। এই ধরনের নোটের মূল্য পাওয়ার জন্য গ্রাহককে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে হতে পারে এবং এক্ষেত্রে ডাক বা কুরিয়ার মাশুল গ্রাহককে বহন করতে হতে পারে।

যেসব নোট বদল করা যায় না:

 * যদি নোট ইচ্ছাকৃতভাবে ছেঁড়া বা বিকৃত করা হয়ে থাকে, তবে তা বদল নাও করা হতে পারে।

 * জাল নোট উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 * একাধিক নোটের অংশ জোড়া দিয়ে নতুন নোট তৈরির চেষ্টা করলে সেই নোটও গ্রহণ করা হবে না।

করণীয়:

যদি আপনার কাছে ছেঁড়া বা ফাটা নোট থাকে, তাহলে নিকটস্থ যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় গিয়ে নোটটি পরিবর্তন করে নিতে পারেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নোট পরীক্ষা করে যদি তা তাদের নিয়ম অনুযায়ী বদলযোগ্য হয়, তবে আপনাকে নতুন নোট প্রদান করবে। কোনো ব্যাংক যদি ছেঁড়া নোট নিতে অস্বীকার করে, তবে আপনি বাংলাদেশ ব্যাংকের হেল্পলাইন বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে পারেন।

সুতরাং, বাংলাদেশে ছেঁড়া ও ফাটা নোট বদল করা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং এর জন্য নির্দিষ্ট নিয়মাবলী বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত আছে যা সকল ব্যাংক অনুসরণ করতে বাধ্য।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ