বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে প্রতিবেশী দেশ শ্রীলংকাকে ২০ কোটি ডলার ঋন দিয়েছিল বাংলাদেশ । তিন মাসের মধ্যে ফেরত দেওয়ার শর্তে ২০২১ সালে নেওয়া এই ঋন যথাসময়ে ফিরত না দিতে পেরে কয়েক দফা সময় চায় শ্রীলংকা। উপায় না থাকায় বাংলাদেশও সময় দিয়ে যাচ্ছে । চলতি বছরের মার্চ মাসের মধ্যে পরিশোধের সময় দেয়া থাকলেও ঐ সময়ে এই ঋন ফেরত পাওয়া অনিশ্চিত। তাই আরও ছয়মাস বাড়িয়ে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক ।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ডসভায় এই সিদ্ধান্ত হয় । গভর্নর আবদুল রউফ তালুকদার এর সভাপতিত্বে সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক, ডেপুটি গভর্নর ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্বাহী পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন । বোর্ড মিটিংয়ে থাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক উর্দ্ধতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সেন্ট্রাল ব্যাংক অব শ্রীলংকার মধ্যে দ্বিপাক্ষীয় কারেন্সী সোয়াপ চুক্তির আওতায় দেশটির অনুকুলে তিন দফায় ২০ কোটি ডলার ছাড় করা হয়েছে । এক্ষেত্রে দেশটির সরকারের গ্যারান্টি রয়েছে । তিন মাস মেয়দী কারেন্সী সোয়াপের চুক্তি হলেও চু্ক্তিতে একবছর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে ।
ফলে তিন মাস পর পর এক বছর পর্যন্ত এ ঋনের মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে । এ ক্ষেত্রে লন্ডন ইন্টার ব্যাংক অফার রেট বা লাইবরের সংগে দেড় শতাংশ সুদ পাবে বাংলাদেশ অর্থ ছাড়ের পর থেকে সুদ পরিশোধের সময় হিসাব করা হবে ।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী , প্রথম দফায় ২০২১ সালের ১৯ আগষ্ট ৫ কোটি ডলার ছাড় করে বাংলাদেশ ব্যাংক । দ্বিতীয় দফায় ১০ কোটি ডলার দেওয়া হয় ঐ বছরের ৩০ অক্টোবর । বাকি ৫ কোটি ডলার ছাড় করা হয় নভেম্বরে । শ্রীলংকাকে দেওয়া ঋনের পরিমান সব মিলিয়ে বাংলাদেশী মুদ্রায় ১ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা । যে অর্থ যেদিন ছাড় করা হয়েছে ঐ দিন থেকে মেয়াদ হিসাব হবে।
ফলে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় গত বছরের আগষ্ট , অক্টোবর ও নভেম্বরের মধ্যে সুদসহ অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু নির্ধারিত সময়ে এ ঋন পরিশোধে ব্যর্থ হয় শ্রীলংকা তাই এবার আরো ৬ মাস সময় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক ।
উল্লেখ্য বাংলাদেশের মত বিশ্বের অনেক দেশই শ্রীলঙ্কাকে ঋন দিয়ে ফেরত পাচ্ছেনা ।
সুত্র: প্রতিদিনের বাংলাদেশ, ১৩ জানুয়ারী ২০২৩।

0 মন্তব্যসমূহ